• বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
  • ঢাকা, বাংলাদেশ
করোনার দ্বিতীয় ঢেউঃ গণবিরোধী সরকারের ব্যর্থতা ও অন্যান্য
করোনার দ্বিতীয় ঢেউঃ গণবিরোধী সরকারের ব্যর্থতা ও অন্যান্য

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

বুধবার, ২৫ আগস্ট ২০২১  |  অনলাইন সংস্করণ

গত বছরই করোনা সারা বিশ্বকে ঝাঁকুনি দিয়েছিল। প্রথম কয়েক মাস আওয়ামী সরকার নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছিল। যখন বাংলাদেশে হানা দিল তখন সরকারের স্বাস্থ্যবিভাগ হযবরল। গণবিরোধী অপ্রস্তুতি, অব্যবস্থাপনা এবং চরম দূর্নীতিতে স্বাস্থ্যখাত ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম।

এ বছরেও বিশেষজ্ঞগণ ৬ মাস আগে থেকেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সম্পর্কে হুঁশিয়ার করে। কিন্তু সরকার ব্যস্ত থাকে  মুজিববর্ষ ও ‘স্বাধাীনতার সুবর্ণজয়ন্তী’নিয়ে। তারা কোটি কোটি টাকা খরচ করে মুক্তিযুদ্ধের আওয়ামী চেতনা এবং উগ্র জাতীয়তাবাদকে জনগণের গলধঃকরণের প্রাণান্তকর চেষ্টা করে। তারা মুজিববর্ষ, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী’কে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ হিসেবে উপস্থাপন করে গণসমাবেশ করে। এই উৎসবে দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান গণশত্রু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হাসিনা সরকার আমন্ত্রণ জানায়। দেশের সর্বস্তরের জনগণের প্রতিবাদ-প্রতিরোধ দমনে রক্তের হোলি খেলে মোদির আগমনকে নিরাপদ করে।

মার্চে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ- এ ভারতের ডেল্টা ভেরিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়লে সরকারি হিসেব মতেই গত বছরের তুলনায় শনাক্ত ও মৃত্যু হার বেড়েছে কয়েকগুণ। মানুষ হাসপাতালে সিট, অক্সিজেন, আইসিইউ পাচ্ছেন না। হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে বিনা চিকিৎসায় মানুষ মারা যাচ্ছেন। ফলে মানুষ হাসপাতালমুখী না হয়ে বাসা-বাড়ীতে থেকেই চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন। চিকিৎসাক্ষেত্রে গত বছরের বেহাল দশা চলছেই।

এমন পরিস্থিতিতে সমালোচনার মুখে গণবিরোধী ফ্যাসিস্ট সরকার ২৯ মার্চ থেকে দফায় দফায় বিধি-নিষেধ আরোপ করে। পরিবহণে অর্ধেক যাত্রি বহনের নামে ৬০% ভাড়া বাড়িয়ে জনগণের পকেট কেটে মালিকদের স্বার্থ রক্ষা করে। তা বাস্তবায়ন করতে না পেরে শিল্প-কারখানা এবং অফিস খোলা রেখে কয়েক দফা গণপরিবহণ বন্ধ করায় জনগণ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিক-শ্রমজীবী জনগণের জীবিকার কোনো ব্যবস্থা না করে, বা কোনো প্রস্তুতি না নিয়েই এই ঘোষণা দেয়। ফলে একদিকে মানুষ যে যেভাবে পেরেছেন ঘরমুখী হয়েছেন। অন্যদিকে বিভিন্ন স্তরের শ্রমিক-শ্রমজীবী জনগণ বিশেষত ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, এবং কর্মচারীরা দোকান খোলার দাবিতে বিক্ষোভ করেন। তারপর সর্বাত্মক লকডাউন, শাটডাউন এমন হরেক রকমের ঘোষণা দিয়ে শিল্প-কারখানা খোলা রাখে। ফলে শ্রমিক-শ্রমজীবী এবং মধ্যবিত্ত জনগণও বার বারই চরম ভোগান্তিতে পড়েন। যাতায়াতে তাদের পাঁচগুণ টাকা খরচ করতে হয়। মূলত গণপরিবহণ এবং স্কুল কলেজ বন্ধ ছাড়া কোন লকডাউনই কার্যকরী হয়নি। মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করতে পারেনি। অঘোষিতভাবে তা খোলা রয়েছে।

শাসকদের সংসদেও এ নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে। কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী তাদের ভাঙ্গা রেকর্ড বাজিয়ে চলছে। কয়েক কোটি দরিদ্র জনগণকে অভুক্ত রেখে শাটডাউনের নামে লকডাউনের সেই পুরনো মহড়াই চালিয়েছে। তাই জনগণ লকডাউন মানে নি। গণবিরোধী সরকার তার জন্য জনগণকেই দায়ী করেছে। দরিদ্র জনগণের খাদ্য সমস্যার সমাধান না করে, পুলিশ-সেনাবাহিনী নামিয়ে জনগণকে ভয়-ভীতি দেখানো, জেল-জরিমানা করার গণবিরোধী পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞগণের বেশি বেশি করোনা টেস্টের পরামর্শ উপেক্ষা করে সরকার পরীক্ষা কমিয়ে শনাক্তের হার কম দেখানোর পুরানো কৌশলই অব্যাহত রেখেছে। সরকার করোনা সংক্রান্ত তথ্য লুকানোর নিদের্শও জারি করেছে। ঢাকা জেলার হাসপাতালগুলোকে করোনা রোগীদের তথ্য গণমাধ্যমকে না দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে জেলার সিভিল সার্জন (১০ জুলাই’২১ প্রথম আলো)। উপসর্গ নিয়ে মৃতুর হিসাবও নেই। ঈদুল আযহা উপলক্ষে লকডাউন উঠিয়ে আবার লকডাউন দিয়ে ভোগান্তির চরম সীমায় ফেলে জনগণকে নিষ্ঠুর শাস্তি দিয়েছে ফ্যাসিবাদী সরকার। এতসব তামাশা করার পর যেদিন করোনায় মৃত্যু সরকারি ভাষ্যমতেই এ যাবতকালে সর্বোচ্চ (২৬৪ জন), তার পরদিন থেকেই তারা সবকিছু পর্যায়ক্রমে খুলে দিয়ে তথাকথিত লকডাউন উঠিয়ে নিয়েছে।

করোনার টিকা নিয়েও সাম্রাজ্যবাদী-পুঁজিবাদীরা রাজনীতি-কুটনীতি ও বাণিজ্য করছে, যার সহচর হয়েছে এ সরকার। ফলে টিকা সংকটও চলছে। এ জন্য তারা সকালে এক কথা বিকালে আরেক কথা বলছে। গত ৭ আগস্ট থেকে গণটিকা দেয়ার নামে গণ-হয়রানি চরমে পৌঁছেছে। জনগণ টিকা নেয়ার জন্য হুড়োহুড়ি করে, রাতভর লাইনে দাঁড়িয়েও অধিকাংশই টিকা পাননি। এ ধরনে টিকা নেয়ার কারণে দেশে করোনা সংক্রমণকে আরো বাড়িয়ে তোলার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এসবের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ যাতে বিদ্রোহে পরিণত হতে না পারে সেজন্য আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে নিত্য নতুন গণবিরোধী আইন আবিষ্কার ও উদ্ভাবন করছে।

 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলায় সরকারের টালবাহানা

গত ২৯ জুলাই’২১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ৫০০ দিন অতিবাহিত হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করে শিক্ষাকার্যক্রম চালু করা সম্ভব ও উচিত ছিল। কারণ, সরকার কার্যত সবই খুলে দিয়েছে। শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা কোনো কার্যকরী পন্থা নয়।

কিন্তু সরকার তা না করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করে। তা উচ্চবিত্তদের সন্তানদের জন্য কিছু কার্যকরী হলেও দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমিক-কৃষক, নিম্ন-মধ্যবিত্তদের সন্তান রয়ে গেছে ডিজিটাল শিক্ষার বাইরে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধাও নেই। ফলে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী রয়ে গেছে ডিজিটাল শিক্ষার বাইরে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লক্ষ লক্ষ শিক্ষক বেকার হয়ে পড়েছেন। তাদের কেউ কেউ রিক্সা-ভ্যান চালিয়ে, কেউ কাঁচামালের ব্যবসা করে বিভিন্নভাবে রুজি-রোজগার করে দিনযাপন করছেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার ব্যাপক ক্ষতি-তো হচ্ছেই। উপরন্তু শিশু-কিশোর-তরুণ শিক্ষার্থীদের ব্যাপক মানসিক, শারীরিক ক্ষতিও হচ্ছে। করোনাকালে গত এক বছরে ১৫১ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪৫% বেশি (প্রথম আলো, ২০ জুলাই)। নানা মাত্রার মানসিক বৈক্যল্যে উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা। বেকার শিক্ষার্থীরা স্মার্টফোন, মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে, এমনকি কিশোর গ্যাং-এ যুক্ত হয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে তারা কারো কিছুর ধার ধারে না। দরিদ্রশ্রেণির ছাত্ররা শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ছে। ব্যাপক সংখ্যক মেয়ে-শিশুকে শিক্ষা বঞ্চিত করে বাল্যবিয়ের মাধ্যমে অন্ধ্যকার জীবনে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।

দেশের ৫ কোটি শিক্ষার্থী শিক্ষা বঞ্চিত। অভাবের তাড়নায় দরিদ্রশ্রেণির শিক্ষার্থীরা শ্রমিকের কাজ করছে নিজেদের তাগিদেই। করোনাকালে তরুণদের অদম্য শক্তি সাহসকে মতাদর্শিকভাবে উদ্বুদ্ধ করে গঠনমূলক কাজে ব্যয় করতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার।

স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যবস্থা করে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া যেতো। যেমন সিলেবাস ছোট করা, এক এক ব্যাচের জন্য সপ্তাহে দুই দিন শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা। বিশেষজ্ঞগণ/বুদ্ধিজীবীগণ শ্রেণিকক্ষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার এমন বহু মতামতই দিয়েছেন। শিক্ষার্থীরাও আন্দোলন করছেন, কিন্তু সরকার তা কানে তুলছে না।

 

জনগণ সাম্রাজ্যবাদের টিকা বাণিজ্যের শিকার

১১ আগস্ট’২১ পর্যন্ত করোনায় বিশ্বের ৪৩ লক্ষ ৩৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদীরা করোনা নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ কোনো প্রচেষ্টা নেয়নি। তারা রীতিমত টিকা নিয়ে বাণিজ্য করছে। গত বছরের ৫ অক্টোবর বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় দেশের বেক্সিমকো ফার্মা এবং ভারতের সিরাম ইনষ্টিটিউটের সাথে চুক্তি করেছিল তিন কোটি করোনা টিকা কেনার জন্য। কিন্তু ভারত নিজ দেশের অতিমারী সামাল দিতে বাংলাদেশে বিক্রি করা টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। আওয়ামী সরকার তখন ভারত এবং শেখ হাসিনার উপদেষ্টা (বেক্সিমকোর মালিক সালমান এফ রহমান)-এর স্বার্থে অন্য কোনো দেশের টিকা আনার কোনো উদ্যোগই নেয়নি। এমনকি করোনা পরীক্ষার কিট এবং টিকা দেশে উৎপাদনের কোনো পদক্ষেপও নেয়নি, বরং এমন উদ্যোগকে  বাধাগ্রস্ত করেছে।

গত বছরের শেষ দিকে রাশিয়া ও চীন তাদের টিকা নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাতে উৎসাহ দেখায়নি হাসিনা সরকার। চীন ভ্যাকসিন ট্রায়ালের জন্যও বাংলাদেশে এসেছিল। কিন্তু এসময় ভারতের হর্ষবর্ধন শ্রিংলা তড়িঘড়ি বাংলাদেশ সফরে এসে ভারতীয় ভ্যাকসিন নিয়ে আলোচনা করে। হাসিনা সরকার চীনের সাথে টিকা কার্যক্রম এড়িয়ে ভারতের সাথে টিকা কেনার চুক্তি করে। চীন তখন নিশ্চুপ থাকে।

চীন, রাশিয়া ও মার্কিনের কাছ থেকে টিকা কেনার উদ্যোগের পরই ১ মে ’২১-এর সংবাদে প্রকাশ, দক্ষিণ এশিয়ার ‘শান্তিপূর্ণ’ ‘উন্নয়ন’ অব্যাহত রাখার স্বার্থে বাইরের শক্তির ‘সামরিক জোটের’ বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে পাশে চায় চীন। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের উপস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অষ্ট্রেলিয়া ও ভারতের কৌশলগত জোট ‘কোয়াড’ নামে পরিচিত। চীনের টিকা আমদানির আলোচনার সময় চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী ৭ ঘণ্টার সফরে ঢাকা এসে উপরোক্ত প্রস্তাব দেয়। এর দুই সপ্তাহ আগে ভারতীয় সেনাপ্রধান বাংলাদেশ ঘুরে যায়। এগুলো হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের আধিপত্য বজায় রাখা এবং ব্যবসার ক্ষেত্র তৈরি করার কূটকৌশল।

হাসিনা সরকারের ক্ষমতার জন্য ভারতের আশীর্বাদ দরকার, অন্যদিকে অবকাঠামোগত ‘উন্নয়ন’এর জন্য চীনের উপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ এখন ভারসাম্য বজায় রেখে চীন ও মার্কিন থেকে টিকা আনছে। বিশেষজ্ঞদের মতে করোনা মহামারির টিকা এখন বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদীদের নিজ নিজ আধিপত্য বিস্তারের একটি কোমল অস্ত্র হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীও বলেছে “টিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে একটা রাজনীতি আছে। বিশ্বের বড় বড় রাষ্ট্র টিকা তৈরি ও মজুত করেছে।”

বাংলাদেশ সরকার দেশের ৮০% মানুষের টিকা দেবে বলছে। তার জন্য প্রয়োজন ২৬ কোটি ৩৫ লক্ষ ডোজ টিকা। এপর্যন্ত দেশের পৌনে ২ কোটি লোককে প্রথম ডোজ টিকা দিয়েছে বলে দাবি করছে সরকার। সাম্রাজ্যবাদীদের কুটকৌশলের মারপ্যাঁচে এই টিকা কিভাবে কত সময়ে দিতে পারবেÑ সরকার তা নিশ্চিত করে বলছে না। এই সব করতে করতেই করোনা ভাইরাস নতুন রূপ নতুন ঢেউ শুরু হবে। আমেরিকা-রাশিয়ায় তা দেখা যাচ্ছে। তাই জনগণকে সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ব ব্যবস্থার কানাগলি থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে তাকে উচ্ছেদের সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।

 

কিছু তথ্য

* করোনায় আড়াই কোটি মানুষ (বাংলাদেশে) গরিব হয়েছে। ১ জুন ’২১ প্রথম আলো

* শ্বাসকষ্টে প্রাণ গেলেও বাক্সবন্দী ভেন্টিলেটরÑ ৩ জুলাই ’২১ প্রথম আলো

* ৫২% হাসপাতালে আইসিইউ নেই। ৪ জুলাই ’২১ প্রথম আলো

* ইকোনমিষ্ট-এর হিসাব অনুযায়ী বিশ্বে মৃতের সংখ্যা আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ।

* যুক্তরাষ্ট্রে মৃত মানুষের বাড়তি সংখ্যা সরকারিভাবে ঘোষিত সংখ্যার চেয়ে ৭.১ শতাংশ বেশি।

* শুধু চলতি বছর এখন পর্যন্ত ভারতে প্রায় ১০ লাখ মানুষ মারা গিয়ে থাকতে পারে।

* বাড়তি মৃতের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানে যোগ না হওয়ার ঘটনা সব দেশে না ঘটলেও অধিকাংশ দেশে ঘটছে।

 - ইকোনমিষ্ট, ১৭ জুন’ ২১, প্রথম আলো

* চট্টগ্রামে সরকারি হিসেবে জুলাই মাসে মৃত্যু ২৬১ জনের। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাশ দাফন করে ৯৭১টি।

-১৪ আগস্ট, প্রথম আলো।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউঃ গণবিরোধী সরকারের ব্যর্থতা ও অন্যান্য

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
বুধবার, ২৫ আগস্ট ২০২১  |  অনলাইন সংস্করণ

গত বছরই করোনা সারা বিশ্বকে ঝাঁকুনি দিয়েছিল। প্রথম কয়েক মাস আওয়ামী সরকার নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছিল। যখন বাংলাদেশে হানা দিল তখন সরকারের স্বাস্থ্যবিভাগ হযবরল। গণবিরোধী অপ্রস্তুতি, অব্যবস্থাপনা এবং চরম দূর্নীতিতে স্বাস্থ্যখাত ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম।

এ বছরেও বিশেষজ্ঞগণ ৬ মাস আগে থেকেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সম্পর্কে হুঁশিয়ার করে। কিন্তু সরকার ব্যস্ত থাকে  মুজিববর্ষ ও ‘স্বাধাীনতার সুবর্ণজয়ন্তী’নিয়ে। তারা কোটি কোটি টাকা খরচ করে মুক্তিযুদ্ধের আওয়ামী চেতনা এবং উগ্র জাতীয়তাবাদকে জনগণের গলধঃকরণের প্রাণান্তকর চেষ্টা করে। তারা মুজিববর্ষ, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী’কে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ হিসেবে উপস্থাপন করে গণসমাবেশ করে। এই উৎসবে দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান গণশত্রু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হাসিনা সরকার আমন্ত্রণ জানায়। দেশের সর্বস্তরের জনগণের প্রতিবাদ-প্রতিরোধ দমনে রক্তের হোলি খেলে মোদির আগমনকে নিরাপদ করে।

মার্চে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ- এ ভারতের ডেল্টা ভেরিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়লে সরকারি হিসেব মতেই গত বছরের তুলনায় শনাক্ত ও মৃত্যু হার বেড়েছে কয়েকগুণ। মানুষ হাসপাতালে সিট, অক্সিজেন, আইসিইউ পাচ্ছেন না। হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে বিনা চিকিৎসায় মানুষ মারা যাচ্ছেন। ফলে মানুষ হাসপাতালমুখী না হয়ে বাসা-বাড়ীতে থেকেই চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন। চিকিৎসাক্ষেত্রে গত বছরের বেহাল দশা চলছেই।

এমন পরিস্থিতিতে সমালোচনার মুখে গণবিরোধী ফ্যাসিস্ট সরকার ২৯ মার্চ থেকে দফায় দফায় বিধি-নিষেধ আরোপ করে। পরিবহণে অর্ধেক যাত্রি বহনের নামে ৬০% ভাড়া বাড়িয়ে জনগণের পকেট কেটে মালিকদের স্বার্থ রক্ষা করে। তা বাস্তবায়ন করতে না পেরে শিল্প-কারখানা এবং অফিস খোলা রেখে কয়েক দফা গণপরিবহণ বন্ধ করায় জনগণ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিক-শ্রমজীবী জনগণের জীবিকার কোনো ব্যবস্থা না করে, বা কোনো প্রস্তুতি না নিয়েই এই ঘোষণা দেয়। ফলে একদিকে মানুষ যে যেভাবে পেরেছেন ঘরমুখী হয়েছেন। অন্যদিকে বিভিন্ন স্তরের শ্রমিক-শ্রমজীবী জনগণ বিশেষত ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, এবং কর্মচারীরা দোকান খোলার দাবিতে বিক্ষোভ করেন। তারপর সর্বাত্মক লকডাউন, শাটডাউন এমন হরেক রকমের ঘোষণা দিয়ে শিল্প-কারখানা খোলা রাখে। ফলে শ্রমিক-শ্রমজীবী এবং মধ্যবিত্ত জনগণও বার বারই চরম ভোগান্তিতে পড়েন। যাতায়াতে তাদের পাঁচগুণ টাকা খরচ করতে হয়। মূলত গণপরিবহণ এবং স্কুল কলেজ বন্ধ ছাড়া কোন লকডাউনই কার্যকরী হয়নি। মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করতে পারেনি। অঘোষিতভাবে তা খোলা রয়েছে।

শাসকদের সংসদেও এ নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে। কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী তাদের ভাঙ্গা রেকর্ড বাজিয়ে চলছে। কয়েক কোটি দরিদ্র জনগণকে অভুক্ত রেখে শাটডাউনের নামে লকডাউনের সেই পুরনো মহড়াই চালিয়েছে। তাই জনগণ লকডাউন মানে নি। গণবিরোধী সরকার তার জন্য জনগণকেই দায়ী করেছে। দরিদ্র জনগণের খাদ্য সমস্যার সমাধান না করে, পুলিশ-সেনাবাহিনী নামিয়ে জনগণকে ভয়-ভীতি দেখানো, জেল-জরিমানা করার গণবিরোধী পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞগণের বেশি বেশি করোনা টেস্টের পরামর্শ উপেক্ষা করে সরকার পরীক্ষা কমিয়ে শনাক্তের হার কম দেখানোর পুরানো কৌশলই অব্যাহত রেখেছে। সরকার করোনা সংক্রান্ত তথ্য লুকানোর নিদের্শও জারি করেছে। ঢাকা জেলার হাসপাতালগুলোকে করোনা রোগীদের তথ্য গণমাধ্যমকে না দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে জেলার সিভিল সার্জন (১০ জুলাই’২১ প্রথম আলো)। উপসর্গ নিয়ে মৃতুর হিসাবও নেই। ঈদুল আযহা উপলক্ষে লকডাউন উঠিয়ে আবার লকডাউন দিয়ে ভোগান্তির চরম সীমায় ফেলে জনগণকে নিষ্ঠুর শাস্তি দিয়েছে ফ্যাসিবাদী সরকার। এতসব তামাশা করার পর যেদিন করোনায় মৃত্যু সরকারি ভাষ্যমতেই এ যাবতকালে সর্বোচ্চ (২৬৪ জন), তার পরদিন থেকেই তারা সবকিছু পর্যায়ক্রমে খুলে দিয়ে তথাকথিত লকডাউন উঠিয়ে নিয়েছে।

করোনার টিকা নিয়েও সাম্রাজ্যবাদী-পুঁজিবাদীরা রাজনীতি-কুটনীতি ও বাণিজ্য করছে, যার সহচর হয়েছে এ সরকার। ফলে টিকা সংকটও চলছে। এ জন্য তারা সকালে এক কথা বিকালে আরেক কথা বলছে। গত ৭ আগস্ট থেকে গণটিকা দেয়ার নামে গণ-হয়রানি চরমে পৌঁছেছে। জনগণ টিকা নেয়ার জন্য হুড়োহুড়ি করে, রাতভর লাইনে দাঁড়িয়েও অধিকাংশই টিকা পাননি। এ ধরনে টিকা নেয়ার কারণে দেশে করোনা সংক্রমণকে আরো বাড়িয়ে তোলার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এসবের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ যাতে বিদ্রোহে পরিণত হতে না পারে সেজন্য আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে নিত্য নতুন গণবিরোধী আইন আবিষ্কার ও উদ্ভাবন করছে।

 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলায় সরকারের টালবাহানা

গত ২৯ জুলাই’২১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ৫০০ দিন অতিবাহিত হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করে শিক্ষাকার্যক্রম চালু করা সম্ভব ও উচিত ছিল। কারণ, সরকার কার্যত সবই খুলে দিয়েছে। শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা কোনো কার্যকরী পন্থা নয়।

কিন্তু সরকার তা না করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করে। তা উচ্চবিত্তদের সন্তানদের জন্য কিছু কার্যকরী হলেও দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমিক-কৃষক, নিম্ন-মধ্যবিত্তদের সন্তান রয়ে গেছে ডিজিটাল শিক্ষার বাইরে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধাও নেই। ফলে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী রয়ে গেছে ডিজিটাল শিক্ষার বাইরে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লক্ষ লক্ষ শিক্ষক বেকার হয়ে পড়েছেন। তাদের কেউ কেউ রিক্সা-ভ্যান চালিয়ে, কেউ কাঁচামালের ব্যবসা করে বিভিন্নভাবে রুজি-রোজগার করে দিনযাপন করছেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার ব্যাপক ক্ষতি-তো হচ্ছেই। উপরন্তু শিশু-কিশোর-তরুণ শিক্ষার্থীদের ব্যাপক মানসিক, শারীরিক ক্ষতিও হচ্ছে। করোনাকালে গত এক বছরে ১৫১ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪৫% বেশি (প্রথম আলো, ২০ জুলাই)। নানা মাত্রার মানসিক বৈক্যল্যে উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা। বেকার শিক্ষার্থীরা স্মার্টফোন, মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে, এমনকি কিশোর গ্যাং-এ যুক্ত হয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে তারা কারো কিছুর ধার ধারে না। দরিদ্রশ্রেণির ছাত্ররা শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ছে। ব্যাপক সংখ্যক মেয়ে-শিশুকে শিক্ষা বঞ্চিত করে বাল্যবিয়ের মাধ্যমে অন্ধ্যকার জীবনে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।

দেশের ৫ কোটি শিক্ষার্থী শিক্ষা বঞ্চিত। অভাবের তাড়নায় দরিদ্রশ্রেণির শিক্ষার্থীরা শ্রমিকের কাজ করছে নিজেদের তাগিদেই। করোনাকালে তরুণদের অদম্য শক্তি সাহসকে মতাদর্শিকভাবে উদ্বুদ্ধ করে গঠনমূলক কাজে ব্যয় করতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার।

স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যবস্থা করে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া যেতো। যেমন সিলেবাস ছোট করা, এক এক ব্যাচের জন্য সপ্তাহে দুই দিন শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা। বিশেষজ্ঞগণ/বুদ্ধিজীবীগণ শ্রেণিকক্ষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার এমন বহু মতামতই দিয়েছেন। শিক্ষার্থীরাও আন্দোলন করছেন, কিন্তু সরকার তা কানে তুলছে না।

 

জনগণ সাম্রাজ্যবাদের টিকা বাণিজ্যের শিকার

১১ আগস্ট’২১ পর্যন্ত করোনায় বিশ্বের ৪৩ লক্ষ ৩৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদীরা করোনা নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ কোনো প্রচেষ্টা নেয়নি। তারা রীতিমত টিকা নিয়ে বাণিজ্য করছে। গত বছরের ৫ অক্টোবর বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় দেশের বেক্সিমকো ফার্মা এবং ভারতের সিরাম ইনষ্টিটিউটের সাথে চুক্তি করেছিল তিন কোটি করোনা টিকা কেনার জন্য। কিন্তু ভারত নিজ দেশের অতিমারী সামাল দিতে বাংলাদেশে বিক্রি করা টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। আওয়ামী সরকার তখন ভারত এবং শেখ হাসিনার উপদেষ্টা (বেক্সিমকোর মালিক সালমান এফ রহমান)-এর স্বার্থে অন্য কোনো দেশের টিকা আনার কোনো উদ্যোগই নেয়নি। এমনকি করোনা পরীক্ষার কিট এবং টিকা দেশে উৎপাদনের কোনো পদক্ষেপও নেয়নি, বরং এমন উদ্যোগকে  বাধাগ্রস্ত করেছে।

গত বছরের শেষ দিকে রাশিয়া ও চীন তাদের টিকা নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাতে উৎসাহ দেখায়নি হাসিনা সরকার। চীন ভ্যাকসিন ট্রায়ালের জন্যও বাংলাদেশে এসেছিল। কিন্তু এসময় ভারতের হর্ষবর্ধন শ্রিংলা তড়িঘড়ি বাংলাদেশ সফরে এসে ভারতীয় ভ্যাকসিন নিয়ে আলোচনা করে। হাসিনা সরকার চীনের সাথে টিকা কার্যক্রম এড়িয়ে ভারতের সাথে টিকা কেনার চুক্তি করে। চীন তখন নিশ্চুপ থাকে।

চীন, রাশিয়া ও মার্কিনের কাছ থেকে টিকা কেনার উদ্যোগের পরই ১ মে ’২১-এর সংবাদে প্রকাশ, দক্ষিণ এশিয়ার ‘শান্তিপূর্ণ’ ‘উন্নয়ন’ অব্যাহত রাখার স্বার্থে বাইরের শক্তির ‘সামরিক জোটের’ বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে পাশে চায় চীন। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের উপস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অষ্ট্রেলিয়া ও ভারতের কৌশলগত জোট ‘কোয়াড’ নামে পরিচিত। চীনের টিকা আমদানির আলোচনার সময় চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী ৭ ঘণ্টার সফরে ঢাকা এসে উপরোক্ত প্রস্তাব দেয়। এর দুই সপ্তাহ আগে ভারতীয় সেনাপ্রধান বাংলাদেশ ঘুরে যায়। এগুলো হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের আধিপত্য বজায় রাখা এবং ব্যবসার ক্ষেত্র তৈরি করার কূটকৌশল।

হাসিনা সরকারের ক্ষমতার জন্য ভারতের আশীর্বাদ দরকার, অন্যদিকে অবকাঠামোগত ‘উন্নয়ন’এর জন্য চীনের উপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ এখন ভারসাম্য বজায় রেখে চীন ও মার্কিন থেকে টিকা আনছে। বিশেষজ্ঞদের মতে করোনা মহামারির টিকা এখন বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদীদের নিজ নিজ আধিপত্য বিস্তারের একটি কোমল অস্ত্র হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীও বলেছে “টিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে একটা রাজনীতি আছে। বিশ্বের বড় বড় রাষ্ট্র টিকা তৈরি ও মজুত করেছে।”

বাংলাদেশ সরকার দেশের ৮০% মানুষের টিকা দেবে বলছে। তার জন্য প্রয়োজন ২৬ কোটি ৩৫ লক্ষ ডোজ টিকা। এপর্যন্ত দেশের পৌনে ২ কোটি লোককে প্রথম ডোজ টিকা দিয়েছে বলে দাবি করছে সরকার। সাম্রাজ্যবাদীদের কুটকৌশলের মারপ্যাঁচে এই টিকা কিভাবে কত সময়ে দিতে পারবেÑ সরকার তা নিশ্চিত করে বলছে না। এই সব করতে করতেই করোনা ভাইরাস নতুন রূপ নতুন ঢেউ শুরু হবে। আমেরিকা-রাশিয়ায় তা দেখা যাচ্ছে। তাই জনগণকে সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ব ব্যবস্থার কানাগলি থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে তাকে উচ্ছেদের সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।

 

কিছু তথ্য

* করোনায় আড়াই কোটি মানুষ (বাংলাদেশে) গরিব হয়েছে। ১ জুন ’২১ প্রথম আলো

* শ্বাসকষ্টে প্রাণ গেলেও বাক্সবন্দী ভেন্টিলেটরÑ ৩ জুলাই ’২১ প্রথম আলো

* ৫২% হাসপাতালে আইসিইউ নেই। ৪ জুলাই ’২১ প্রথম আলো

* ইকোনমিষ্ট-এর হিসাব অনুযায়ী বিশ্বে মৃতের সংখ্যা আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ।

* যুক্তরাষ্ট্রে মৃত মানুষের বাড়তি সংখ্যা সরকারিভাবে ঘোষিত সংখ্যার চেয়ে ৭.১ শতাংশ বেশি।

* শুধু চলতি বছর এখন পর্যন্ত ভারতে প্রায় ১০ লাখ মানুষ মারা গিয়ে থাকতে পারে।

* বাড়তি মৃতের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানে যোগ না হওয়ার ঘটনা সব দেশে না ঘটলেও অধিকাংশ দেশে ঘটছে।

 - ইকোনমিষ্ট, ১৭ জুন’ ২১, প্রথম আলো

* চট্টগ্রামে সরকারি হিসেবে জুলাই মাসে মৃত্যু ২৬১ জনের। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাশ দাফন করে ৯৭১টি।

-১৪ আগস্ট, প্রথম আলো।

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র