ইউপি নির্বাচনঃ শাসকশ্রেণির গ্রাম-পর্যায়ে ক্ষমতা দখলের লড়াই
আন্দোলন প্রতিবেদন
মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২১ | অনলাইন সংস্করণ
দেশে ইউপি নির্বাচন চলছে। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের যা পরিস্থিতি ও ফলাফল তাতে দেশের জনগণের দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। প্রথম দুই ধাপের নির্বাচনে দ্বন্দ্ব-সংঘাত-হামলায় প্রায় অর্ধশত নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শত সহস্র। এসব ঘিরে মামলা-হামলা চলছে। এ নির্বাচনে কেন এত সহিংসতা হচ্ছে এই প্রশ্ন এখন সর্বত্র। এই নির্বাচন এবং সহিংসতা নিয়ে টিভি চ্যানেলগুলো বুর্জোয়া বুদ্ধিজীবী এবং আওয়ামী, বিএনপি নেতাদের নিয়ে প্রতিদিন টক-শো করছে। এতে ‘গণতন্ত্র’কতটুকু রক্ষা হলো বা খর্ব হলো- এই কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে কথামালার ফুলঝুরিতে।
২০১৬ সাল থেকে ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকার দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচন (চেয়ারম্যান) চালু করেছে। হাসিনা সরকার জাতীয় নির্বাচনের মতো গ্রাম পর্যায়ে দলীয়ভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্যই এই নিয়ম চালু করেছে। হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকারের অধীনে নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় বিএনপি এবার ইউপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি, যদিও দলের লোকদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পথ খোলা রেখেছে। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ ও সরকার যেভাবে তাদের নেতা-কর্মীদের দলীয় এবং গোষ্ঠীগত স্বার্থে মাস্তান হিসেবে গড়ে তুলেছে তাতে তারা এখন শুধু দলের স্বার্থে নয়, গোষ্ঠী/ব্যক্তির ক্ষমতার স্বার্থে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
ইউপি নির্বাচনে দলীয়ভাবে ইউনিয়ন-প্রতি চেয়ারম্যান পদে একজনকেই মনোনয়ন দিতে পারে। কিন্তু অন্য আওয়ামী নেতারা কেন বঞ্চিত হবে? তারাও মনোনয়ন পেতে উঠেপড়ে লেগেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলের ১৭ জনের মনোনয়ন বোর্ড রয়েছে। দলের মনোনয়ন পেতে চলে প্রতিযোগিতা। নানা ধরেনর প্রতিযোগিতার পাশাপাশি চলে “মনোনয়ন বাণিজ্য”। জনপ্রতি মনোনয়ন পেতে কোটি টাকার ঘুষ-বাণিজ্য চলে বলে পত্রিকায় প্রকাশ। এই টাকা খরচ করে যারা মনোনয়ন পায় না তারাই বিদ্রোহ করে। এবং বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করে। এই বিদ্রোহীদের পেছনে মন্ত্রী-সাংসদরাও রয়েছে বলে প্রকাশ। তাদেরও অস্ত্র রয়েছে, যা ব্যবহৃত হয়। সুতরাং ক্ষমতার দ্বন্দ্বে চলে সংঘাত-হানাহানি। শাসকশ্রেণির বদৌলতে স্থানীয় নির্বাচনে দরিদ্র ও সাধারণ জনগণ আঞ্চলিক/গোষ্ঠী স্বার্থ দ্বারা প্রভাবিত থাকেন। তারাও এই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। বলা ভাল জনগণকে গণশত্রু ক্ষমতাসীনরা ব্যবহার করে। এই হানাহানি-সহিংসতা আওয়ামী লীগের নিজেদের মধ্যেই বেশির ভাগ ঘটেছে- নৌকা আর বিদ্রোহী। সবাই আওয়ামী লীগ, সবাই শেখ হাসিনার লোক। সংঘর্ষ করলেও আওয়ামীদের সাত খুন মাফ। প্রশাসন ও পুলিশ ‘নিরপেক্ষ’ ভূমিকা রাখছে বা কোথাও কোথাও অনুমেয় কারণে কোনো পক্ষে কাজ করছে। কিছু মামলা হচ্ছে। কিন্তু এসবের আসল গডফাদারদের কিছুই হবে না সেটা নিশ্চিত।
এই সহিংসতার জন্য শাসকশ্রেণি, বিশেষত আওয়ামী লীগ এবং ফ্যসিবাদী হাসিনা সরকারই দায়ী। বিগত ১৪ বছরে আওয়ামী দুঃশাসনে জনগণ অতিষ্ঠ। তার প্রমাণ এই ইউপি নির্বাচন। নৌকা প্রতীকওয়ালাদের এতো দাপট সত্ত্বেও বহু ক্ষেত্রে জনগণ নৌকা প্রতীকে ভোট দেননি। জনগণের কাছে বিকল্প না থাকায় বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। অনেক কেন্দ্রে নৌকা প্রতীক জামানত হারিয়েছে। যারা বিজয়ী হয়েছে বা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছে সেসব ক্ষেত্রে আওয়ামী সাংসদ ও নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন দলের, স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থীদের জোর করে মনোনয়ন প্রত্যাহার করানোর। একে বলে “প্রত্যাহার-বাণিজ্য”। এ ধরেনর অভিযোগ জনগণ তো বটেই এমনকি জাতীয় পার্টির মহাসচিব মজিবুল হকও জাতীয় সংসদদের অধিবেশনে করেছেন। নৌকার পরাজয় ও বিদ্রোহী সামাল দেয়ার জন্য, পার্টিতে ভাঙ্গন ঠেকানোর জন্য, আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে মাদারীপুরের সাতটি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী না দিয়ে সবার জন্য উন্মুক্ত রেখেছিল। তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জের ৮৮টি ইউনিয়নে প্রার্থীতা উন্মুক্ত রেখেছে। অন্যান্য জেলা থেকেও এই আবেদন সাংসদেরা করেছে।
ইউপি নির্বাচনে সহিংসতায় অর্ধশতেরও বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পরও সিইসি নুরুল হুদা বলেছে “ইউপি নির্বাচনে তেমন সহিংসতা হচ্ছে না।” লজ্জা নেই!!
পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থায় শাসকশ্রেণি নির্বাচন দিয়ে ব্যবস্থাকে অক্ষুন্ন রেখে তাদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মাঝে ক্ষমতার পালাবদল করে। তাতে জনগণের ক্ষমতা প্রাপ্তির কোনো প্রশ্ন ওঠে না। তা সত্তে¡ও তাদের ব্যবস্থায় ভোটের একটা গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদের দালাল আমলা-মুৎসুদ্দি শাসকশ্রেণির প্রতিনিধি ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার সেটাও আজ নির্বাসনে দিয়েছে।
ইউপি নির্বাচনে বিশেষত মেম্বারের ক্ষেত্রে জনগণের কেউ কেউ নির্বাচিত হয়ে থাকে। কিন্তু তাতে জনগণের ক্ষমতা ও মুক্তি অর্জিত হয় না। কারণটা পরিষ্কার- রাষ্ট্রক্ষমতা থাকে বিদেশি দালাল বড় বুর্জোয়া শ্রেণির হাতে। তাই এই নির্বাচনে জনগণ থেকে কিছু সৎ, ভাল, গরীব/মধ্যবিত্ত মানুষ বিজয়ী হলেও তারা লুটপাটের অংশ হয়ে যেতে বাধ্য হন। বা জনগণের প্রকৃত কোনো উপকার করতে ব্যর্থ হন। মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া ও গ্রামীণ সামন্ততান্ত্রিক শ্রেণিরা নির্বাচনে জনগণকে বিভক্ত করে। হত্যা-খুনোখুনি সহিংসতায় তাদেরকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, তারা বলির পাঁঠা হন। এবারের ইউপি নির্বাচনে আমরা তাই দেখছি। নির্বাচনী সহিংসতায় গ্রামাঞ্চলে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। এই যে কোটি কোটি টাকা খরচ করে একেক জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে/হচ্ছে, তারা জনগণের প্রতিনিধি বা বন্ধু নয়। তারা জনগণকে লুটপাট করে তাদের খরচের টাকা কয়েকগুণ বাড়িয়ে উঠিয়ে নেবে। জনগণের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ করে তার কিছু বখরা দিয়ে জনগণের একটা ক্ষুদ্র অংশকে দলীয় মাস্তান হিসেবে ব্যবহার করবে।
ইউপি নির্বাচনে জনগণের ক্ষমতা বা মুক্তি কিছুই হবে না। এই গণবিরোধী নির্বাচন সম্পর্কে জনগণকে সচেতন হতে হবে। ইউপি নির্বাচনের বিপরীতে গণক্ষমতা প্রতিষ্ঠার বিপ্লবী কর্মসূচি তুলে ধরে জনগণকে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের জন্য সংগঠিত হতে হবে।
নির্বাচনী হালচাল
* তিন ধাপের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রায় ২৫০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়।
* ‘রক্তের খেলা কিন্তু বন্ধ হবে না, .. ভোট সেন্টারে যেতেও পারবে না’
- কুষ্টিয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর প্রতি আওয়ামী নেতার ছেলে হুঁশিয়ারি।
* ভদ্রভাবে বলা যায়- এটা ইলেকশন নয়, সিলেকশন। -সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।
* নির্বাচন ‘আইসিইউতে’, গণতন্ত্র ‘লাইফ সাপোর্টে’- নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ইউপি নির্বাচনঃ শাসকশ্রেণির গ্রাম-পর্যায়ে ক্ষমতা দখলের লড়াই
দেশে ইউপি নির্বাচন চলছে। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের যা পরিস্থিতি ও ফলাফল তাতে দেশের জনগণের দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। প্রথম দুই ধাপের নির্বাচনে দ্বন্দ্ব-সংঘাত-হামলায় প্রায় অর্ধশত নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শত সহস্র। এসব ঘিরে মামলা-হামলা চলছে। এ নির্বাচনে কেন এত সহিংসতা হচ্ছে এই প্রশ্ন এখন সর্বত্র। এই নির্বাচন এবং সহিংসতা নিয়ে টিভি চ্যানেলগুলো বুর্জোয়া বুদ্ধিজীবী এবং আওয়ামী, বিএনপি নেতাদের নিয়ে প্রতিদিন টক-শো করছে। এতে ‘গণতন্ত্র’কতটুকু রক্ষা হলো বা খর্ব হলো- এই কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে কথামালার ফুলঝুরিতে।
২০১৬ সাল থেকে ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকার দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচন (চেয়ারম্যান) চালু করেছে। হাসিনা সরকার জাতীয় নির্বাচনের মতো গ্রাম পর্যায়ে দলীয়ভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্যই এই নিয়ম চালু করেছে। হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকারের অধীনে নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় বিএনপি এবার ইউপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি, যদিও দলের লোকদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পথ খোলা রেখেছে। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ ও সরকার যেভাবে তাদের নেতা-কর্মীদের দলীয় এবং গোষ্ঠীগত স্বার্থে মাস্তান হিসেবে গড়ে তুলেছে তাতে তারা এখন শুধু দলের স্বার্থে নয়, গোষ্ঠী/ব্যক্তির ক্ষমতার স্বার্থে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
ইউপি নির্বাচনে দলীয়ভাবে ইউনিয়ন-প্রতি চেয়ারম্যান পদে একজনকেই মনোনয়ন দিতে পারে। কিন্তু অন্য আওয়ামী নেতারা কেন বঞ্চিত হবে? তারাও মনোনয়ন পেতে উঠেপড়ে লেগেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলের ১৭ জনের মনোনয়ন বোর্ড রয়েছে। দলের মনোনয়ন পেতে চলে প্রতিযোগিতা। নানা ধরেনর প্রতিযোগিতার পাশাপাশি চলে “মনোনয়ন বাণিজ্য”। জনপ্রতি মনোনয়ন পেতে কোটি টাকার ঘুষ-বাণিজ্য চলে বলে পত্রিকায় প্রকাশ। এই টাকা খরচ করে যারা মনোনয়ন পায় না তারাই বিদ্রোহ করে। এবং বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করে। এই বিদ্রোহীদের পেছনে মন্ত্রী-সাংসদরাও রয়েছে বলে প্রকাশ। তাদেরও অস্ত্র রয়েছে, যা ব্যবহৃত হয়। সুতরাং ক্ষমতার দ্বন্দ্বে চলে সংঘাত-হানাহানি। শাসকশ্রেণির বদৌলতে স্থানীয় নির্বাচনে দরিদ্র ও সাধারণ জনগণ আঞ্চলিক/গোষ্ঠী স্বার্থ দ্বারা প্রভাবিত থাকেন। তারাও এই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। বলা ভাল জনগণকে গণশত্রু ক্ষমতাসীনরা ব্যবহার করে। এই হানাহানি-সহিংসতা আওয়ামী লীগের নিজেদের মধ্যেই বেশির ভাগ ঘটেছে- নৌকা আর বিদ্রোহী। সবাই আওয়ামী লীগ, সবাই শেখ হাসিনার লোক। সংঘর্ষ করলেও আওয়ামীদের সাত খুন মাফ। প্রশাসন ও পুলিশ ‘নিরপেক্ষ’ ভূমিকা রাখছে বা কোথাও কোথাও অনুমেয় কারণে কোনো পক্ষে কাজ করছে। কিছু মামলা হচ্ছে। কিন্তু এসবের আসল গডফাদারদের কিছুই হবে না সেটা নিশ্চিত।
এই সহিংসতার জন্য শাসকশ্রেণি, বিশেষত আওয়ামী লীগ এবং ফ্যসিবাদী হাসিনা সরকারই দায়ী। বিগত ১৪ বছরে আওয়ামী দুঃশাসনে জনগণ অতিষ্ঠ। তার প্রমাণ এই ইউপি নির্বাচন। নৌকা প্রতীকওয়ালাদের এতো দাপট সত্ত্বেও বহু ক্ষেত্রে জনগণ নৌকা প্রতীকে ভোট দেননি। জনগণের কাছে বিকল্প না থাকায় বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। অনেক কেন্দ্রে নৌকা প্রতীক জামানত হারিয়েছে। যারা বিজয়ী হয়েছে বা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছে সেসব ক্ষেত্রে আওয়ামী সাংসদ ও নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন দলের, স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থীদের জোর করে মনোনয়ন প্রত্যাহার করানোর। একে বলে “প্রত্যাহার-বাণিজ্য”। এ ধরেনর অভিযোগ জনগণ তো বটেই এমনকি জাতীয় পার্টির মহাসচিব মজিবুল হকও জাতীয় সংসদদের অধিবেশনে করেছেন। নৌকার পরাজয় ও বিদ্রোহী সামাল দেয়ার জন্য, পার্টিতে ভাঙ্গন ঠেকানোর জন্য, আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে মাদারীপুরের সাতটি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী না দিয়ে সবার জন্য উন্মুক্ত রেখেছিল। তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জের ৮৮টি ইউনিয়নে প্রার্থীতা উন্মুক্ত রেখেছে। অন্যান্য জেলা থেকেও এই আবেদন সাংসদেরা করেছে।
ইউপি নির্বাচনে সহিংসতায় অর্ধশতেরও বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পরও সিইসি নুরুল হুদা বলেছে “ইউপি নির্বাচনে তেমন সহিংসতা হচ্ছে না।” লজ্জা নেই!!
পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থায় শাসকশ্রেণি নির্বাচন দিয়ে ব্যবস্থাকে অক্ষুন্ন রেখে তাদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মাঝে ক্ষমতার পালাবদল করে। তাতে জনগণের ক্ষমতা প্রাপ্তির কোনো প্রশ্ন ওঠে না। তা সত্তে¡ও তাদের ব্যবস্থায় ভোটের একটা গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদের দালাল আমলা-মুৎসুদ্দি শাসকশ্রেণির প্রতিনিধি ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার সেটাও আজ নির্বাসনে দিয়েছে।
ইউপি নির্বাচনে বিশেষত মেম্বারের ক্ষেত্রে জনগণের কেউ কেউ নির্বাচিত হয়ে থাকে। কিন্তু তাতে জনগণের ক্ষমতা ও মুক্তি অর্জিত হয় না। কারণটা পরিষ্কার- রাষ্ট্রক্ষমতা থাকে বিদেশি দালাল বড় বুর্জোয়া শ্রেণির হাতে। তাই এই নির্বাচনে জনগণ থেকে কিছু সৎ, ভাল, গরীব/মধ্যবিত্ত মানুষ বিজয়ী হলেও তারা লুটপাটের অংশ হয়ে যেতে বাধ্য হন। বা জনগণের প্রকৃত কোনো উপকার করতে ব্যর্থ হন। মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া ও গ্রামীণ সামন্ততান্ত্রিক শ্রেণিরা নির্বাচনে জনগণকে বিভক্ত করে। হত্যা-খুনোখুনি সহিংসতায় তাদেরকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, তারা বলির পাঁঠা হন। এবারের ইউপি নির্বাচনে আমরা তাই দেখছি। নির্বাচনী সহিংসতায় গ্রামাঞ্চলে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। এই যে কোটি কোটি টাকা খরচ করে একেক জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে/হচ্ছে, তারা জনগণের প্রতিনিধি বা বন্ধু নয়। তারা জনগণকে লুটপাট করে তাদের খরচের টাকা কয়েকগুণ বাড়িয়ে উঠিয়ে নেবে। জনগণের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ করে তার কিছু বখরা দিয়ে জনগণের একটা ক্ষুদ্র অংশকে দলীয় মাস্তান হিসেবে ব্যবহার করবে।
ইউপি নির্বাচনে জনগণের ক্ষমতা বা মুক্তি কিছুই হবে না। এই গণবিরোধী নির্বাচন সম্পর্কে জনগণকে সচেতন হতে হবে। ইউপি নির্বাচনের বিপরীতে গণক্ষমতা প্রতিষ্ঠার বিপ্লবী কর্মসূচি তুলে ধরে জনগণকে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের জন্য সংগঠিত হতে হবে।
নির্বাচনী হালচাল
* তিন ধাপের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রায় ২৫০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়।
* ‘রক্তের খেলা কিন্তু বন্ধ হবে না, .. ভোট সেন্টারে যেতেও পারবে না’
- কুষ্টিয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর প্রতি আওয়ামী নেতার ছেলে হুঁশিয়ারি।
* ভদ্রভাবে বলা যায়- এটা ইলেকশন নয়, সিলেকশন। -সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।
* নির্বাচন ‘আইসিইউতে’, গণতন্ত্র ‘লাইফ সাপোর্টে’- নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।
আরও খবর
- শনি
- রোব
- সোম
- মঙ্গল
- বুধ
- বৃহ
- শুক্র