• মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
  • ঢাকা, বাংলাদেশ
বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর-নিপীড়িত জনগণের মুক্তি আসেনি
বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর-নিপীড়িত জনগণের মুক্তি আসেনি

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২১  |  অনলাইন সংস্করণ

এ বছরের শুরু থেকেই সরকার বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীর সাথে মুজিববর্ষ পালনের উৎসবে মেতে ছিল। করোনা মহামারীতে কিছু ব্যাঘাত ঘটেছে। এ উপলক্ষে সরকার এবং সরকার পালিত বুদ্ধিজীবীরা আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধের বয়ান এবং এই ৫০ বছরে বাংলাদেশের উন্নতির ফিরিস্তি গেয়ে চলেছেন। “৭১-এর বিপ্লবী মুক্তিযুদ্ধ; ৫০-বর্ষপূর্তি পালন করুন...” শিরোনামে একটি নিবন্ধ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সংখ্যা আন্দোলনে প্রকাশ হয়েছে। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের উপর মোটাদরে আমাদের বক্তব্য রয়েছে।

এখানে আমরা এই ৫০ বছরে জনগণের পরিস্থিতি কী হয়েছে সে বিষয়ে সংক্ষেপে কিছু আলোচনা করবো।

পাকিস্তান আমলে গড়ে ওঠা মৌলিক বহু শিল্প-কারখানা বিগত ৫০ বছরে ধ্বংস করে সাম্রাজ্যবাদ নির্ভর শিল্প-কারখানা গড়ে তুলেছে। গার্মেন্ট শিল্প হচেছ বিদেশীদের দালাল মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া মালিকদের মধ্যস্বত্বভোগী দরজির কারখানা। দেশে যে একশ’টি শিল্পাঞ্চল গড়ার ঘোষণা সরকার দিয়েছে তা বিদেশ-নির্ভর। দেশের কৃষি জমি ধ্বংস করে সাম্রাজ্যবাদীদের শোষণ এবং লুটপাটের ব্যবস্থামাত্র। দেশে ৩ কোটি লোক বেকার (তথ্য: আইএলও)। বেকার সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ সরকার উন্নত জীবনযাপনে প্রলুব্ধ করে এ দেশের নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী, যুবকদের বিদেশে পাচার করছে। যারা অনেকেই বিদেশ-বিভুঁইয়ে মানবেতর জীবযাপন করছে এবং নারীরা অনেকেই পতিতালয়ে বিক্রি হচ্ছেন বা বাসাবাড়ী কাজে নিযুক্ত হয়ে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

এই ৫০ বছরে দালাল সরকারগুলো কৃষক এবং কৃষিকেও বিদেশ নির্ভর করেছে। “ খোদ কৃষকের হাতে জমি”-র নীতি বাস্তবায়ন হয়নি। বরং দরিদ্র ও মাঝারি কৃষক জমি হারিয়ে সর্বহারা/আধা-সর্বহারায় রূপান্তর হয়ে কাজের সন্ধানে শহরে এসে ভীড় করছেন। দেশীয় বীজ ধ্বংস করে এখন বীজ, কীট নাশক, জ্বালানি তেলসহ উৎপাদন সরঞ্জাম বিদেশ থেকে আমদানি করছে। ফলে ফসল উৎপাদেন প্রচুর খরচ হচ্ছে। কিন্তু কৃষক ফসলের  ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। দেশে এখন সাড়ে ৬ কোটি মানুষ দরিদ্র। যারা অর্ধাহার-অনাহার-অপুষ্টিতে ভুগছেন।

উন্নয়নের নামে মেগা প্রকল্পে দেশি-বিদেশিদের মেগা-লুটপাটের এক মহোৎসব চলছে। জাতীয় সম্পদ তেল-গ্যাস-কয়লাক্ষেত্র, সমুদ্র ও নদীবন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দিয়েছে দেশের অক্ষমতা/অদক্ষতার অজুহাতে। সুন্দরবন ধ্বংসকারী রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র ভারতের স্বার্থে নির্মাণ করছে। রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রসহ অসংখ্যা পরিবেশ দূষণ প্রকল্প তৈরি করছে। বিশ্ব যখন কয়লা থেকে সরে আসার ঘোষণা দিচ্ছে, বাংলাদেশ সরকার তখন ৩ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ করে কয়লা টার্মিনাল, কয়লা জেটি এবং কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র বানাচ্ছে। আর এসব মেগা পরিকল্পনার জন্য ভাড়া করা হয় বিদেশি কোম্পানিকে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও বাংলাদেশ নাকি নিজস্ব প্রকৌশলী দ্বারা রাস্তা, কালভার্ট, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে পারে না। বিদেশিদের দিয়ে করাতে দ্বিগুণ/তিনগুণ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। লুটপাটের ভাগ সরকারের আমলারাও পেয়ে থাকে। বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচার হচ্ছে এবং কানাডা, মালয়েশিয়ায় “বেগম পাড়া” গড়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের ৫০ বছরে আদিবাসী জনগণ পাহাড় এবং সমতলে তাদের জমি থেকে উচ্ছেদ হচ্ছেন, ধমীয় সংখ্যালঘুরা ভিটেমাটি ছেড়ে দেশান্তরী হচ্ছেন। ৫০ বছরে দেশ থেকে ৭৫ লাখ হিন্দু কমেছে। (সূত্র প্রথমআলো)

শ্রমিক-কৃষক, শ্রমজীবী জনগণ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। দেশের তিন কোটির বেশি মানুষ চিকিৎসার প্রয়োজন থাকলে হাসপাতালে যান না অর্থাভাবে। দেশের ৫২.৬২% লোক ওষুধের দোকান বা হাতুড়ে ডাক্তারের কাছ থেকে চিকিৎসা নেন।

দেশের শিক্ষাকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে। ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে স্থুল আত্মপ্রতিষ্ঠা ও বিদেশমুখীতার মোহ সৃষ্টি করছে। ব্যাপকভাবে মাদ্রাসা শিক্ষাকে উৎসাহিত করে জঙ্গীবাদের প্রজননক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে। শ্রমিক-কৃষকদের সন্তানরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। যারা লেখাপড়া করছেন তারা উপযুক্ত শিক্ষা পাচ্ছেন না।

দ্রব্যমূল্য দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। শ্রমিক-কৃষক-শ্রমজীবী জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। তাদের জীবনযাত্রার মান নিচে নেমে যাচ্ছে। এখন জ্বালানি তেলে মূল্যবৃদ্ধি করে জনজীবনকে আরো বিধ্বস্ত করছে।

স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে এখন নারীরা ভয়-আতঙ্কের মধ্যে আছেন। তারা প্রতিনিয়ত ধর্ষণ-গণধর্ষণ, যৌতুক প্রথার শিকার। পৈত্রিক সম্পত্তিতে নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা হয়নি। হত্যা-নির্যাতনের শিকার অহরহ। বিশ্বে বাল্যবিবাহে বাংলাদেশ চতুর্থ। স্ত্রী নির্যাতনেও বাংলাদেশ বিশ্বে চতুর্থ। নারী বিরোধী ওয়াজ-নসিহতের কোনো প্রতিকার নেই।

মাদক-গাঁজা-ইয়াবা দ্বারা দেশের তরুণ-তরুণীদের কলুষিত করেছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশের তরুণ-যুবকদের হাতে স্মার্টফোন সাম্রাজ্যবাদী ও ভারতীয় অপসংস্কৃতিতে তাদের বুঁদ করে রাখছে। তারা সমাজবিচ্ছিন্ন এক প্রজাতি হিসেবে গড়ে উঠছে।

রাষ্ট্রব্যবস্থা ঘুষ-দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত। মাস্তানবাজী, চাঁদাবাজী, অপহরণ-গুম-খুন-খারাবীতে দেশ ছেয়ে গেছে।

বিগত ৫০ বছরে তিন তিন বার সামরিক স্বৈরশাসন জারী হয়েছে। রাষ্ট্রের দুই জন প্রেসিডেন্ট, অসংখ্য সৈনিক এই ব্যবস্থায় হত্যার শিকার হয়েছেন। এখন আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসন চলছে। আগেও তাদের নেতৃত্বে বাকশালী ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সমালোচনা করলেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দমন-নির্যাতন চলছে। এখন তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে জনগণের টাকায় বাহিনী ও সুরক্ষার আইন করা হচ্ছে।

বিগত ৫০ বছরে দালাল শাসকশ্রেণির উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু শ্রমিক-কৃষক সহ সাধারণ জনগণের মুক্তি হয়নি। তারা দুর্বিসহ জীবন কাটাছেন।

জনগণকে এই গণদুশমনদের বিপ্লবী সংগ্রামের মাধ্যমে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে গণক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেই তাদের জীবন-মানের উন্নয়ন কর্মসূচি চালানো যাবে।

বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর-নিপীড়িত জনগণের মুক্তি আসেনি

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২১  |  অনলাইন সংস্করণ

এ বছরের শুরু থেকেই সরকার বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীর সাথে মুজিববর্ষ পালনের উৎসবে মেতে ছিল। করোনা মহামারীতে কিছু ব্যাঘাত ঘটেছে। এ উপলক্ষে সরকার এবং সরকার পালিত বুদ্ধিজীবীরা আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধের বয়ান এবং এই ৫০ বছরে বাংলাদেশের উন্নতির ফিরিস্তি গেয়ে চলেছেন। “৭১-এর বিপ্লবী মুক্তিযুদ্ধ; ৫০-বর্ষপূর্তি পালন করুন...” শিরোনামে একটি নিবন্ধ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সংখ্যা আন্দোলনে প্রকাশ হয়েছে। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের উপর মোটাদরে আমাদের বক্তব্য রয়েছে।

এখানে আমরা এই ৫০ বছরে জনগণের পরিস্থিতি কী হয়েছে সে বিষয়ে সংক্ষেপে কিছু আলোচনা করবো।

পাকিস্তান আমলে গড়ে ওঠা মৌলিক বহু শিল্প-কারখানা বিগত ৫০ বছরে ধ্বংস করে সাম্রাজ্যবাদ নির্ভর শিল্প-কারখানা গড়ে তুলেছে। গার্মেন্ট শিল্প হচেছ বিদেশীদের দালাল মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া মালিকদের মধ্যস্বত্বভোগী দরজির কারখানা। দেশে যে একশ’টি শিল্পাঞ্চল গড়ার ঘোষণা সরকার দিয়েছে তা বিদেশ-নির্ভর। দেশের কৃষি জমি ধ্বংস করে সাম্রাজ্যবাদীদের শোষণ এবং লুটপাটের ব্যবস্থামাত্র। দেশে ৩ কোটি লোক বেকার (তথ্য: আইএলও)। বেকার সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ সরকার উন্নত জীবনযাপনে প্রলুব্ধ করে এ দেশের নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী, যুবকদের বিদেশে পাচার করছে। যারা অনেকেই বিদেশ-বিভুঁইয়ে মানবেতর জীবযাপন করছে এবং নারীরা অনেকেই পতিতালয়ে বিক্রি হচ্ছেন বা বাসাবাড়ী কাজে নিযুক্ত হয়ে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

এই ৫০ বছরে দালাল সরকারগুলো কৃষক এবং কৃষিকেও বিদেশ নির্ভর করেছে। “ খোদ কৃষকের হাতে জমি”-র নীতি বাস্তবায়ন হয়নি। বরং দরিদ্র ও মাঝারি কৃষক জমি হারিয়ে সর্বহারা/আধা-সর্বহারায় রূপান্তর হয়ে কাজের সন্ধানে শহরে এসে ভীড় করছেন। দেশীয় বীজ ধ্বংস করে এখন বীজ, কীট নাশক, জ্বালানি তেলসহ উৎপাদন সরঞ্জাম বিদেশ থেকে আমদানি করছে। ফলে ফসল উৎপাদেন প্রচুর খরচ হচ্ছে। কিন্তু কৃষক ফসলের  ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। দেশে এখন সাড়ে ৬ কোটি মানুষ দরিদ্র। যারা অর্ধাহার-অনাহার-অপুষ্টিতে ভুগছেন।

উন্নয়নের নামে মেগা প্রকল্পে দেশি-বিদেশিদের মেগা-লুটপাটের এক মহোৎসব চলছে। জাতীয় সম্পদ তেল-গ্যাস-কয়লাক্ষেত্র, সমুদ্র ও নদীবন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দিয়েছে দেশের অক্ষমতা/অদক্ষতার অজুহাতে। সুন্দরবন ধ্বংসকারী রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র ভারতের স্বার্থে নির্মাণ করছে। রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রসহ অসংখ্যা পরিবেশ দূষণ প্রকল্প তৈরি করছে। বিশ্ব যখন কয়লা থেকে সরে আসার ঘোষণা দিচ্ছে, বাংলাদেশ সরকার তখন ৩ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ করে কয়লা টার্মিনাল, কয়লা জেটি এবং কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র বানাচ্ছে। আর এসব মেগা পরিকল্পনার জন্য ভাড়া করা হয় বিদেশি কোম্পানিকে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও বাংলাদেশ নাকি নিজস্ব প্রকৌশলী দ্বারা রাস্তা, কালভার্ট, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে পারে না। বিদেশিদের দিয়ে করাতে দ্বিগুণ/তিনগুণ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। লুটপাটের ভাগ সরকারের আমলারাও পেয়ে থাকে। বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচার হচ্ছে এবং কানাডা, মালয়েশিয়ায় “বেগম পাড়া” গড়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের ৫০ বছরে আদিবাসী জনগণ পাহাড় এবং সমতলে তাদের জমি থেকে উচ্ছেদ হচ্ছেন, ধমীয় সংখ্যালঘুরা ভিটেমাটি ছেড়ে দেশান্তরী হচ্ছেন। ৫০ বছরে দেশ থেকে ৭৫ লাখ হিন্দু কমেছে। (সূত্র প্রথমআলো)

শ্রমিক-কৃষক, শ্রমজীবী জনগণ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। দেশের তিন কোটির বেশি মানুষ চিকিৎসার প্রয়োজন থাকলে হাসপাতালে যান না অর্থাভাবে। দেশের ৫২.৬২% লোক ওষুধের দোকান বা হাতুড়ে ডাক্তারের কাছ থেকে চিকিৎসা নেন।

দেশের শিক্ষাকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে। ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে স্থুল আত্মপ্রতিষ্ঠা ও বিদেশমুখীতার মোহ সৃষ্টি করছে। ব্যাপকভাবে মাদ্রাসা শিক্ষাকে উৎসাহিত করে জঙ্গীবাদের প্রজননক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে। শ্রমিক-কৃষকদের সন্তানরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। যারা লেখাপড়া করছেন তারা উপযুক্ত শিক্ষা পাচ্ছেন না।

দ্রব্যমূল্য দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। শ্রমিক-কৃষক-শ্রমজীবী জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। তাদের জীবনযাত্রার মান নিচে নেমে যাচ্ছে। এখন জ্বালানি তেলে মূল্যবৃদ্ধি করে জনজীবনকে আরো বিধ্বস্ত করছে।

স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে এখন নারীরা ভয়-আতঙ্কের মধ্যে আছেন। তারা প্রতিনিয়ত ধর্ষণ-গণধর্ষণ, যৌতুক প্রথার শিকার। পৈত্রিক সম্পত্তিতে নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা হয়নি। হত্যা-নির্যাতনের শিকার অহরহ। বিশ্বে বাল্যবিবাহে বাংলাদেশ চতুর্থ। স্ত্রী নির্যাতনেও বাংলাদেশ বিশ্বে চতুর্থ। নারী বিরোধী ওয়াজ-নসিহতের কোনো প্রতিকার নেই।

মাদক-গাঁজা-ইয়াবা দ্বারা দেশের তরুণ-তরুণীদের কলুষিত করেছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশের তরুণ-যুবকদের হাতে স্মার্টফোন সাম্রাজ্যবাদী ও ভারতীয় অপসংস্কৃতিতে তাদের বুঁদ করে রাখছে। তারা সমাজবিচ্ছিন্ন এক প্রজাতি হিসেবে গড়ে উঠছে।

রাষ্ট্রব্যবস্থা ঘুষ-দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত। মাস্তানবাজী, চাঁদাবাজী, অপহরণ-গুম-খুন-খারাবীতে দেশ ছেয়ে গেছে।

বিগত ৫০ বছরে তিন তিন বার সামরিক স্বৈরশাসন জারী হয়েছে। রাষ্ট্রের দুই জন প্রেসিডেন্ট, অসংখ্য সৈনিক এই ব্যবস্থায় হত্যার শিকার হয়েছেন। এখন আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসন চলছে। আগেও তাদের নেতৃত্বে বাকশালী ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সমালোচনা করলেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দমন-নির্যাতন চলছে। এখন তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে জনগণের টাকায় বাহিনী ও সুরক্ষার আইন করা হচ্ছে।

বিগত ৫০ বছরে দালাল শাসকশ্রেণির উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু শ্রমিক-কৃষক সহ সাধারণ জনগণের মুক্তি হয়নি। তারা দুর্বিসহ জীবন কাটাছেন।

জনগণকে এই গণদুশমনদের বিপ্লবী সংগ্রামের মাধ্যমে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে গণক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেই তাদের জীবন-মানের উন্নয়ন কর্মসূচি চালানো যাবে।

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র