• রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সাম্প্রতিক

সাম্প্রতিক

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

পিংক বাস দিলেই কি নারীর জীবন রঙিন হবে?

পিংক বাস দিয়ে বিএনপি সরকার নারীর নাগরিক পরিবহণকে সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু এতে কি তা হবে?

পিংক বাস চালু দুটো বিষয়কে স্পষ্ট করে– প্রথমত, দেশে নারীর জীবন কতটা অনিরাপদ ও কতটা কঠিন, যা বুর্জোয়া শাসকশ্রেণি, বুর্জোয়া রাজনীতি ও বুর্জোয়া রাষ্ট্র সমাধান করতে ব্যর্থ। দুই, বুর্জোয়া শাসকশ্রেণি দেশের পরিবহণ ব্যবস্থাকে খোদ রাজধানীতে পর্যন্ত কতটা দুর্বিসহ করে তুলেছে।

এতে প্রয়োজনের তুলনায় অতি অল্প কিছু ক্ষেত্রে নারীর কিছুটা সুবিধা হতে পারে বটে, কিন্তু এতে তাদের যে মূল সমস্যা, পুরুষতান্ত্রিক যঁাতাকলে লাঞ্ছিত হওয়া, তাকে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। উপরন্তু অতীতেও এমন পৃথক বাস-সার্ভিসের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, এ ব্যবস্থা চলে মুনাফার তেলে। পিংক বাসের পক্ষে মুনাফা তৈরি কঠিন বা অসম্ভব বলেই মনে হয়। সুতরাং ধরে নেয়া যায় যে, এর ভবিষ্যত খুব একটা ভালো মনে হয় না।

ভারতের “ককরোচ জনতা পার্টির” আন্দোলন

সম্প্রতি ভারতে “ককরোচ জনতা পার্টির (CJP)” নামে  ইনস্টাগ্রামকেন্দ্রিক একটি প্লাটফর্ম থেকে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে দিল্লীর যন্তর মন্তর নামক স্থানে আন্দোলনের ডাক দেয়া হয়। কেন্দ্রীয় মেডিক্যাল পরীক্ষায় (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে ২০ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন। যার ফলে ছাত্র-সমাজের তীব্র হতাশা ও ক্ষোভের মুখে জনৈক অনলাইন এ্যাকটিভিস্ট অভিজিৎ দীপকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ২ জুলাই থেকে আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থী-জনগণ যুক্ত হতে থাকেন। 

ককরোচ অর্থ হলো আরশোলা বা তেলাপোকা। ভারতের সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত মিশ্র বেকার ছাত্র-তরুণদের আন্দোলনকে ককরোচের সাথে তুলনা করেছিল। এরপর থেকে মার্কিন প্রবাসী ভারতীয় নাগরিক অভিজিৎ দীপকে ইন্সটাগ্রামে এর প্রতিবাদে “ককরোচ জনতা পার্টি” নামে একটি গ্রুপ খোলেন। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই এর ফলোয়ার সংখ্যা ২ কোটি ছাড়িয়ে যায়।

সেই আন্দোলনে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। আন্দোলন আরো জোরদার হয়। “ককরোচ জনতা পার্টি” শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি করে। দ্রুতই এই আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এই আন্দোলন দমাতে ভারত সরকারও হাসিনা সরকারের মতোই দমন-পীড়নের পথে হাটে। কিন্তু এতে আন্দোলন আরো তীব্র হয়। এই আন্দোলনে মোদি সরকার দ্রুতই ভীত হয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করায়। বিজেপি গোষ্ঠী ভীত ছিল যে, সকল বিরোধী বুর্জোয়া রাজনৈতিক শক্তি এবং সুশীল সমাজ ও বুদ্ধিজীবীদের ঐক্য গড়ে উঠতে পারে এবং এটা সরকারের পদত্যাগের আন্দোলনে পর্যবসিত হতে পারে; যা বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কায় ঘটেছে।

 ককরোচ জনতা পার্টি কোনো ইতিবাচক রাজনৈতিক শক্তি নয়। অতীতের আমআদমি পার্টির মতো এর নেতৃত্বরা সচেতন ও/বা অসচেতনভাবে শাসকশ্রেণি ও রাষ্ট্রযন্ত্রের বিকল্প শক্তি। এটা প্রমাণ করে যে, ভারতেও প্রচলিত বুর্জোয়া পার্টিগুলোর উপর সাধারণ জনগণ এমনকি ছাত্র-তরুণদের তেমন কোনো আস্থা নেই।

নেতৃত্ব ও কর্মসূচির সংস্কারবাদীতা ও বুর্জোয়া চরিত্র, এবং বিশেষত প্রতিক্রিয়াশীল দেশি-বিদেশি শক্তির ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও ব্যাপক ছাত্র-তরুণদের ন্যায্য ও সাহসী লড়াইকে সমর্থন করা ও তাতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। একে নিছক মার্কিনের ষড়যন্ত্র/পরিকল্পনা বা এ ধরনের অভিধা দেয়া সঠিক নয়। আমাদের দেশের অভ্যুত্থানকেও আমরা সেভাবেই মূল্যায়ন করেছি।

গোলাপকে যে নামেই ডাকো.....; আর খুনীকে....

বিখ্যাত মনীষীর কথাটাকে সম্পূর্ণ বললে এরকম হবেÑ গোলাপকে তুমি যে নামেই ডাকো না কেন, সে সুগন্ধি বিলাবে। ঠিক। কিন্তু খুনীর ক্ষেত্রেও কি কথাটা সঠিক নয়? নাম বদলালেও কি সে খুনীই থাকবে না?!

সম্প্রতি সরকার “র‍্যাব” বিলুপ্ত করেছে। অথবা ভালোভাবে বললে দাঁড়ায় র‍্যাবের নাম বদল করেছে। নতুন নাম এসআরবি।

কেন এটা করলো? পুলিশ বা সেনাবাহিনীর নাম-তো বদল করা হয়নি। হাসিনা আমলে বিডিআর বিদ্রোহের পটভূমিতে তার নাম বদল করে বিজিবি রাখা হয়েছিল। এখন র‍্যাব কেন?

কারণ, হাসিনা আমলে বিনাবিচারে হত্যা, গুম, খুন, নির্যাতনের জন্য র‍্যাব কুখ্যাতি অর্জন করেছিল। তাই, জনমতের দাবি ছিল র‍্যাব বিলুপ্ত করা। 

কিন্তু র‍্যাব তো বিএনপি-ই তৈরি করেছিল, ২০০৪ সালে ক্ষমতায় থাকাকালে। এখন কেউ কেউ বলে যে, সেটা তখন ভালোই ছিল, কিন্তু হাসিনা র‍্যাবকে খুনী বানিয়েছিল। একথা একেবারেই সত্য নয়। র‍্যাব গঠনের পর যে প্রায় দুই বছর তৎকালে বিএনপি ক্ষমতায় ছিল সে সময়কালে বহু মানুষকে তারা হত্যা করেছিল। বিশেষ করে মাওবাদী বিপ্লবীদেরকে। কমরেড মোফাখখার চৌধুরি ও কমরেড কামরুল মাস্টারসহ বহু মাওবাদী নেতা ও কেডার সে আমলেই শহিদ হন। ক্রমে র‍্যাব আরো বড় খুনীতে পরিণত হয়, আয়নাঘর তৈরি করে– এসব কাহিনি এখন জানা।

তো এরকম এক খুনী বাহিনীর নাম বদল করে  তার চরিত্র কি বদল করা যাবে? হাসিনা আমলে শুধু র‍্যাব কেন, প্রতিটি রাষ্ট্রীয় বাহিনী এ জাতীয় গণবিরোধী সন্ত্রাস ও খুনের দায়ে দায়ী ছিল। এখন তার কিছু কিছুর বিচারও চলছে। তাহলে শুধু র‍্যাব কী দোষ করলো?

বাস্তবে রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলো এরকম খুনী হয়ে ওঠার পেছনে রাষ্ট্র-ব্যবস্থা ও তাদের প্রশিক্ষক সাম্রাজ্যবাদীরা দায়ী। যতদিন তার পরিবর্তন না হচ্ছে ততদিন নাম বদলে খুব একটা কিছু পরিবর্তন হবে না।

ডাকসু-তে রাজাকার নৃত্য

ডাকসু ভবনে পাকিস্তানি জাতির পিতা জিন্নাহ’র ছবি টাঙানো নিয়ে ডাকসু নেতৃত্ব তথা জামাত-শিবিরের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন দেশের প্রগতিশীল তরুণ-ছাত্র-বুদ্ধিজীবী সমাজ।

এই রাজাকার উত্তরাধিকারীদের যুক্তি হলো, তারা ইতিহাসের ধারাবাহিকতা দেখাতে এ ছবি টাঙিয়েছে। ভালো কথা! আশা করা যায় যে, তারা এখন নিজেদের অফিসে বা বাসায় ইতিহাসের ধারাবাহিকতা দেখাতে মীরজাফরের ছবি টাঙিয়ে রাখবে সিরাজউদ্দৌলার পাশে, গোলাম আযম ও হাসিনার ছবিও টাঙাবে, এবং ’৭১-এর শহিদদের পাশে খুনী ইয়াহিয়া এবং নিজামীদের ছবিটিও লাগিয়ে রাখবে।

জুলাই অভ্যুত্থানে হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদের উচ্ছেদের সুযোগে ’৭১-এর খুনী রাজাকার মতাদর্শ ও ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদ যে ভয়ংকর ভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে তা আগেও বুর্জোয়া সংসদে দেখা গেছে। সকল বুর্জোয়া দলগুলো একত্রে মিলে ’৭১-এর খুনী অপরাধী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামাত নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে।

এসব থেকে দেশের সকল প্রগতিশীল জনগণকে অতি মাত্রায় সতর্ক হতে হবে। ক্ষমতাসীন বিএনপি একদিকে জামাত, ’৭১ প্রশ্নে জনমতকে ব্যবহার করার জন্য জামাত-রাজাকারদের গালাগালি দিচ্ছে, অন্যদিকে এসব ফ্যাসিবাদী শয়তানিকে চলতে দিচ্ছে। একথা কোনোক্রমেই ভুললে চলবে না যে, হাসিনা-ভারত-আওয়ামীরা যেমন ফ্যাসিবাদী, তেমনি জামাত-ধর্মবাদী ফ্যাসিস্টরাও জনগণের জানি দুশমন। এদের একটিকে আরেকটি দিয়ে প্রতিস্থাপন করলে আগামীতে আরো বড় ক্ষতির সামনে পড়তে হবে এ জাতিকে ও জনগণকে।

সাম্প্রতিক

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

পিংক বাস দিলেই কি নারীর জীবন রঙিন হবে?

পিংক বাস দিয়ে বিএনপি সরকার নারীর নাগরিক পরিবহণকে সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু এতে কি তা হবে?

পিংক বাস চালু দুটো বিষয়কে স্পষ্ট করে– প্রথমত, দেশে নারীর জীবন কতটা অনিরাপদ ও কতটা কঠিন, যা বুর্জোয়া শাসকশ্রেণি, বুর্জোয়া রাজনীতি ও বুর্জোয়া রাষ্ট্র সমাধান করতে ব্যর্থ। দুই, বুর্জোয়া শাসকশ্রেণি দেশের পরিবহণ ব্যবস্থাকে খোদ রাজধানীতে পর্যন্ত কতটা দুর্বিসহ করে তুলেছে।

এতে প্রয়োজনের তুলনায় অতি অল্প কিছু ক্ষেত্রে নারীর কিছুটা সুবিধা হতে পারে বটে, কিন্তু এতে তাদের যে মূল সমস্যা, পুরুষতান্ত্রিক যঁাতাকলে লাঞ্ছিত হওয়া, তাকে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। উপরন্তু অতীতেও এমন পৃথক বাস-সার্ভিসের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, এ ব্যবস্থা চলে মুনাফার তেলে। পিংক বাসের পক্ষে মুনাফা তৈরি কঠিন বা অসম্ভব বলেই মনে হয়। সুতরাং ধরে নেয়া যায় যে, এর ভবিষ্যত খুব একটা ভালো মনে হয় না।

ভারতের “ককরোচ জনতা পার্টির” আন্দোলন

সম্প্রতি ভারতে “ককরোচ জনতা পার্টির (CJP)” নামে  ইনস্টাগ্রামকেন্দ্রিক একটি প্লাটফর্ম থেকে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে দিল্লীর যন্তর মন্তর নামক স্থানে আন্দোলনের ডাক দেয়া হয়। কেন্দ্রীয় মেডিক্যাল পরীক্ষায় (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে ২০ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন। যার ফলে ছাত্র-সমাজের তীব্র হতাশা ও ক্ষোভের মুখে জনৈক অনলাইন এ্যাকটিভিস্ট অভিজিৎ দীপকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ২ জুলাই থেকে আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থী-জনগণ যুক্ত হতে থাকেন। 

ককরোচ অর্থ হলো আরশোলা বা তেলাপোকা। ভারতের সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত মিশ্র বেকার ছাত্র-তরুণদের আন্দোলনকে ককরোচের সাথে তুলনা করেছিল। এরপর থেকে মার্কিন প্রবাসী ভারতীয় নাগরিক অভিজিৎ দীপকে ইন্সটাগ্রামে এর প্রতিবাদে “ককরোচ জনতা পার্টি” নামে একটি গ্রুপ খোলেন। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই এর ফলোয়ার সংখ্যা ২ কোটি ছাড়িয়ে যায়।

সেই আন্দোলনে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। আন্দোলন আরো জোরদার হয়। “ককরোচ জনতা পার্টি” শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি করে। দ্রুতই এই আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এই আন্দোলন দমাতে ভারত সরকারও হাসিনা সরকারের মতোই দমন-পীড়নের পথে হাটে। কিন্তু এতে আন্দোলন আরো তীব্র হয়। এই আন্দোলনে মোদি সরকার দ্রুতই ভীত হয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করায়। বিজেপি গোষ্ঠী ভীত ছিল যে, সকল বিরোধী বুর্জোয়া রাজনৈতিক শক্তি এবং সুশীল সমাজ ও বুদ্ধিজীবীদের ঐক্য গড়ে উঠতে পারে এবং এটা সরকারের পদত্যাগের আন্দোলনে পর্যবসিত হতে পারে; যা বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কায় ঘটেছে।

 ককরোচ জনতা পার্টি কোনো ইতিবাচক রাজনৈতিক শক্তি নয়। অতীতের আমআদমি পার্টির মতো এর নেতৃত্বরা সচেতন ও/বা অসচেতনভাবে শাসকশ্রেণি ও রাষ্ট্রযন্ত্রের বিকল্প শক্তি। এটা প্রমাণ করে যে, ভারতেও প্রচলিত বুর্জোয়া পার্টিগুলোর উপর সাধারণ জনগণ এমনকি ছাত্র-তরুণদের তেমন কোনো আস্থা নেই।

নেতৃত্ব ও কর্মসূচির সংস্কারবাদীতা ও বুর্জোয়া চরিত্র, এবং বিশেষত প্রতিক্রিয়াশীল দেশি-বিদেশি শক্তির ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও ব্যাপক ছাত্র-তরুণদের ন্যায্য ও সাহসী লড়াইকে সমর্থন করা ও তাতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। একে নিছক মার্কিনের ষড়যন্ত্র/পরিকল্পনা বা এ ধরনের অভিধা দেয়া সঠিক নয়। আমাদের দেশের অভ্যুত্থানকেও আমরা সেভাবেই মূল্যায়ন করেছি।

গোলাপকে যে নামেই ডাকো.....; আর খুনীকে....

বিখ্যাত মনীষীর কথাটাকে সম্পূর্ণ বললে এরকম হবেÑ গোলাপকে তুমি যে নামেই ডাকো না কেন, সে সুগন্ধি বিলাবে। ঠিক। কিন্তু খুনীর ক্ষেত্রেও কি কথাটা সঠিক নয়? নাম বদলালেও কি সে খুনীই থাকবে না?!

সম্প্রতি সরকার “র‍্যাব” বিলুপ্ত করেছে। অথবা ভালোভাবে বললে দাঁড়ায় র‍্যাবের নাম বদল করেছে। নতুন নাম এসআরবি।

কেন এটা করলো? পুলিশ বা সেনাবাহিনীর নাম-তো বদল করা হয়নি। হাসিনা আমলে বিডিআর বিদ্রোহের পটভূমিতে তার নাম বদল করে বিজিবি রাখা হয়েছিল। এখন র‍্যাব কেন?

কারণ, হাসিনা আমলে বিনাবিচারে হত্যা, গুম, খুন, নির্যাতনের জন্য র‍্যাব কুখ্যাতি অর্জন করেছিল। তাই, জনমতের দাবি ছিল র‍্যাব বিলুপ্ত করা। 

কিন্তু র‍্যাব তো বিএনপি-ই তৈরি করেছিল, ২০০৪ সালে ক্ষমতায় থাকাকালে। এখন কেউ কেউ বলে যে, সেটা তখন ভালোই ছিল, কিন্তু হাসিনা র‍্যাবকে খুনী বানিয়েছিল। একথা একেবারেই সত্য নয়। র‍্যাব গঠনের পর যে প্রায় দুই বছর তৎকালে বিএনপি ক্ষমতায় ছিল সে সময়কালে বহু মানুষকে তারা হত্যা করেছিল। বিশেষ করে মাওবাদী বিপ্লবীদেরকে। কমরেড মোফাখখার চৌধুরি ও কমরেড কামরুল মাস্টারসহ বহু মাওবাদী নেতা ও কেডার সে আমলেই শহিদ হন। ক্রমে র‍্যাব আরো বড় খুনীতে পরিণত হয়, আয়নাঘর তৈরি করে– এসব কাহিনি এখন জানা।

তো এরকম এক খুনী বাহিনীর নাম বদল করে  তার চরিত্র কি বদল করা যাবে? হাসিনা আমলে শুধু র‍্যাব কেন, প্রতিটি রাষ্ট্রীয় বাহিনী এ জাতীয় গণবিরোধী সন্ত্রাস ও খুনের দায়ে দায়ী ছিল। এখন তার কিছু কিছুর বিচারও চলছে। তাহলে শুধু র‍্যাব কী দোষ করলো?

বাস্তবে রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলো এরকম খুনী হয়ে ওঠার পেছনে রাষ্ট্র-ব্যবস্থা ও তাদের প্রশিক্ষক সাম্রাজ্যবাদীরা দায়ী। যতদিন তার পরিবর্তন না হচ্ছে ততদিন নাম বদলে খুব একটা কিছু পরিবর্তন হবে না।

ডাকসু-তে রাজাকার নৃত্য

ডাকসু ভবনে পাকিস্তানি জাতির পিতা জিন্নাহ’র ছবি টাঙানো নিয়ে ডাকসু নেতৃত্ব তথা জামাত-শিবিরের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন দেশের প্রগতিশীল তরুণ-ছাত্র-বুদ্ধিজীবী সমাজ।

এই রাজাকার উত্তরাধিকারীদের যুক্তি হলো, তারা ইতিহাসের ধারাবাহিকতা দেখাতে এ ছবি টাঙিয়েছে। ভালো কথা! আশা করা যায় যে, তারা এখন নিজেদের অফিসে বা বাসায় ইতিহাসের ধারাবাহিকতা দেখাতে মীরজাফরের ছবি টাঙিয়ে রাখবে সিরাজউদ্দৌলার পাশে, গোলাম আযম ও হাসিনার ছবিও টাঙাবে, এবং ’৭১-এর শহিদদের পাশে খুনী ইয়াহিয়া এবং নিজামীদের ছবিটিও লাগিয়ে রাখবে।

জুলাই অভ্যুত্থানে হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদের উচ্ছেদের সুযোগে ’৭১-এর খুনী রাজাকার মতাদর্শ ও ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদ যে ভয়ংকর ভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে তা আগেও বুর্জোয়া সংসদে দেখা গেছে। সকল বুর্জোয়া দলগুলো একত্রে মিলে ’৭১-এর খুনী অপরাধী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামাত নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে।

এসব থেকে দেশের সকল প্রগতিশীল জনগণকে অতি মাত্রায় সতর্ক হতে হবে। ক্ষমতাসীন বিএনপি একদিকে জামাত, ’৭১ প্রশ্নে জনমতকে ব্যবহার করার জন্য জামাত-রাজাকারদের গালাগালি দিচ্ছে, অন্যদিকে এসব ফ্যাসিবাদী শয়তানিকে চলতে দিচ্ছে। একথা কোনোক্রমেই ভুললে চলবে না যে, হাসিনা-ভারত-আওয়ামীরা যেমন ফ্যাসিবাদী, তেমনি জামাত-ধর্মবাদী ফ্যাসিস্টরাও জনগণের জানি দুশমন। এদের একটিকে আরেকটি দিয়ে প্রতিস্থাপন করলে আগামীতে আরো বড় ক্ষতির সামনে পড়তে হবে এ জাতিকে ও জনগণকে।

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র